সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারির সিদ্ধান্ত

  • আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০৯:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০৯:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারির সিদ্ধান্ত
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর অধীনে দেশে প্রথমবারের মতো তিনটি এলাকা ‘পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। একই সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঢাকার গ্রীন রোডের ওয়ারপো ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিল্পখাতে পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘পানি ব্যবস্থাপনা নীতি ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাহী কমিটির সভায় পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ২২ ও ২৭ অনুযায়ী টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আওতায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সভায় আইনটির দুর্বল বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় জানানো হয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে (১,৫০৩টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন (৭টি মৌজা) এবং একটি পৌরসভার ৫টি মৌজাকে অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় পানি আইন অনুযায়ী পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং গৃহস্থালি ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী এক মাসের মধ্যে করণীয় নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সভায় আরও জানানো হয়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পানির প্রাপ্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৫০ জেলায় চলমান ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম বাকি ১৪ জেলায় শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহিদীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ঢাকায় ‘হাওরের সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, দেশের হাওরগুলোর বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকার বিদ্যমান মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করছে। দূষণ বন্ধে নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন শৃঙ্খলায় আনতে হাওরে সুরক্ষা আদেশ জারি করা হবে। বনায়নের মাধ্যমে হাওরে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও করছে সরকার। তিনি বলেন, হাওরের পর্যটন এমন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমরা এখন একটা সুরক্ষা আদেশ প্রস্তুত করছি। ২০১৩ সালের পানি আইনের অধীনে হাওর রক্ষায় সুরক্ষা আদেশের খসড়া প্রস্তুত করছি। সুরক্ষা আদেশে পর্যটকের কী করণীয় সেটা উল্লেখ থাকবে বলে জানিয়েছিলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, সুরক্ষা আদেশে বলে দেওয়া থাকবে একজন পর্যটক কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না। এটা নিয়ন্ত্রণ নয়, এটাই ইকো ট্যুরিজমের (পরিবেশবান্ধব পর্যটন) প্রসার। আওয়াজ সৃষ্টি করে, গান-বাজনা করে যে ট্যুরিজম সেটাকে কোনোভাবে ইকো ট্যুরিজম বলা যায় না। যেখান থেকে পর্যটকেরা হাওরে ভ্রমণ শুরু করেন, সেখান থেকে তদারকির জন্য একটা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান পরিবেশ উপদেষ্টা। এ কাজের জন্য জেলা প্রশাসন, হাওর অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের রাখা হবে বলে জানান তিনি। আপাতত সুরক্ষা আদেশ টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য করা হচ্ছে জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, সুরক্ষা আদেশ আমরা সব হাওরের জন্য করতে পারছি না। কারণ, এটি করতে হলে ল্যান্ড স্পেসিফিকেশন লাগে যেমন দাগ, মৌজা, খতিয়ান ধরে ধরে করতে হয়। ফলে আমরা এখন টাঙ্গুয়ার হাওরে এটা করতে পারব। কারণ, এটি যেহেতু প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, তার ল্যান্ড স্পেসিফিকেশনটা আমাদের আছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স